হবু বৌয়ের মন জয়ে ৮০০ কোটি টাকার প্রাসাদ
প্রেম, ইতিহাস, সৌন্দর্য ও রাজসিক ঐতিহ্যের এক জীবন্ত সাক্ষী ‘পটৌদী প্যালেস’

প্রাসাদটি বানিয়েছিলেন সাইফ আলির ঠাকুরদাদা, নবাব মহম্মদ ইফতিকার আলি খান পটৌদী। শুধু নবাব নন, তিনি ছিলেন ১৯৪৬ সালে ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়কও। তিনি বিয়ে করতে চেয়েছিলেন ভোপালের শেষ নবাব হামিদুল্লাহ খানের দ্বিতীয় কন্যা বেগম সাজিদা সুলতানকে। ভোপালের রাজসিক বিলাসিতায় বড় হওয়া সাজিদার জন্য পটৌদীর পুরনো বাড়িটা নাকি যথেষ্ট মনে হয়নি ইফতিকারের। তাই অষ্টম নবাবের অনুরোধে ১৯৩৫ সালে ব্রিটিশ স্থপতি রবার্ট টর রাসেলকে দিয়ে ঔপনিবেশিক কেতায় নকশা করানো হয় এই নতুন প্রাসাদটির। স্থানীয়রা একে ‘ইব্রাহিম কোঠি’ নামেও চিনতেন।

সাইফ আলি খানের বাবা, কিংবদন্তি ক্রিকেটার মনসুর আলি খান পটৌদী ওরফে টাইগার পটৌদীর মৃত্যুর পর প্রাসাদটি হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল সাইফদের। ২০১১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর টাইগার পটৌদী মারা যাওয়ার পর প্রাসাদটি নিমরানা হোটেল গ্রুপকে ভাড়া দেওয়া ছিল। ২০১৯ সালের এক সাক্ষাৎকারে সাইফ নিজেই জানিয়েছিলেন, তার বাবা মারা যাওয়ার পর প্রাসাদটা নিমরানা গ্রুপের কাছে ভাড়া দেওয়া ছিল। ওরা তাকে বলেছিল, ফেরত পেতে গেলে অনেক টাকা দিতে হবে। অবশেষে ২০১৪ সালে নিজের পৈতৃক প্রাসাদ আবারও কিনতে হয় সাইফকে। তার কথায়, লোকে ভাবে, পৈতৃক সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে সে। কিন্তু এই বাড়িটাও তাকে টাকা দিয়ে কিনে নিতে হয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে কিছুই পাননি, শুধু ইতিহাস, কিছু সুন্দর ছবি আর জমি ছাড়া।

আজ পটৌদী প্যালেস শুধু নবাব পরিবারের ছুটি কাটানোর জায়গা নয়, বলিউডেরও প্রিয় শুটিং স্পটও বটে। এখানে শুটিং হয়েছে ‘মঙ্গল পাণ্ডে’, ‘বীর-জ়ারা’, ‘রং দে বসন্তী’, ‘গাঁধী মাই ফাদার’, ‘মেরে ব্রাদার কি দুলহন’, ‘তাণ্ডব’-এর মতো একাধিক সিনেমা ও সিরিজ়ের।
প্রাসাদের দরজা ঠেলে ঢুকলেই চোখে পড়বে উঁচু উঁচু সিলিং, যেখান থেকে ঝুলছে বিশাল সাবেক ঝাড়বাতি। দেয়ালে টাঙানো নবাব পরিবারের পুরনো দিনের হাতে আঁকা ছবি, কোণে কোণে ছড়িয়ে আছে পুরনো দিনের আসবাব, দুষ্প্রাপ্য সব শিল্পকর্ম। প্রতিটা ঘর যেন এক একটা ইতিহাসের পাতা। স্থাপত্যেও নবাবি ছাপ স্পষ্ট। কোথাও সূক্ষ্ম কারুকাজ করা খিলান, কোথাও নিখুঁত নকশা কাটা দেয়াল, মাথার উপর বিশাল গম্বুজ। ব্রিটিশ স্থাপত্যের ছোঁয়া আর দেশীয় রাজকীয়তার মিশেল — এই সংমিশ্রণই পটৌদী প্যালেসকে অনন্য করে তুলেছে।
সাইফ আলী খান এই প্রাসাদকে কেবল একটি বাড়ি বা জমি হিসেবে দেখেন না, বরং এটি তাঁর পরিবারের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক। এই প্রাসাদের প্রতিটি ইট, করিডর ও কক্ষে রয়েছে ইতিহাসের গাথা, সংস্কৃতি ও উত্তরাধিকারের গল্প। তাঁর এই উদ্যোগ তাঁদের পারিবারিক ভালোবাসা ও দায়িত্বের স্বীকৃতি, যেখানে ঐতিহ্যের প্রতি গভীর সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশ পায়।
ফিচার বাংলা / এনএন
এ সম্পর্কিত
ফের গণবিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স
সহিংসতার আশঙ্কায় পুরো প্যারিস শহর যেন এক অবরুদ্ধ দুর্গ জীবনযাত্রার চরম ব্যয়বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় পরি...
আন্তর্জাতিক সাইবার হামলার শঙ্কা
ওয়েবসাইট শাটডাউন, জরুরি সতর্কতা বাংলাদেশেও বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইট তৈরি ও পরিচালনায় সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত প...
এ-পৃথিবী একবার পায় তারে, পায়নাকো আর…
লক্ষ্মীপেঁচা শঙ্খচিল রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ হেমন্তের তারাভরা রাতে নিঃশব্দে ফুরিয়েছিল জীবনান...
অন্য কেউ হলে সুইসাইড করতো: চিত্রনায়িকা পরীমনি
সারাজীবন কপালে ঝামেলাই লেখা, এনজয় করি: পরীমনি ফিচার বাংলা ডেস্ক ব্যক্তিগত জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত আর নি...
পাঠকের মন্তব্য
০