শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ • ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ • ১:৪৯:২৫ PM
|
|
এখন সাইটে সংবাদ পড়ছেন ০ জন
এই খবর পড়ছেন ০ জন

শুভ্র শরতে দেবী দুর্গার আগমন: সর্বজনীন মিলনের এক অনন্য বারতা

ফিচার বাংলা
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | 07:27 PM | পড়তে সময় ৭ মিনিট | মন্তব্য ০

শরতের মেঘমুক্ত নীল আকাশ, শুভ্র কাশের দোলা আর ভোরের শিউলি ঝরা গন্ধ বয়ে আনে এক চিরন্তন সুর—‘ দেবী দুর্গার আগমনী বারতা’। এই আগমন কেবল একটি ধর্মীয় আচার বা পূজামণ্ডপের জাঁকজমকের গল্প নয়; শতাব্দী ধরে শারদোৎসব বাঙালি ও ভারতীয় সংস্কৃতিতে রূপ নিয়েছে এক মহামিলন উৎসবে।

টেরাকোটায় দেবী দুর্গা
টেরাকোটায় দেবী দুর্গা

প্রাক-পূজার প্রস্তুতি থেকে শুরু করে মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠের মহিমান্বিত সুর, আর মণ্ডপগুলোতে দেবীর নিখুঁত প্রতিমা গড়ার কাজ থেকেই মূলত শুরু হয় এই সর্বজনীন আনন্দরূপ। মহালয়ার সেই আগমনী বাণীর পর ষষ্ঠীতে দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে যে উৎসবের সূচনা ঘটে, তা পরবর্তী প্রতিটি দিনকে ভরিয়ে তোলে একেকটি ভিন্ন আবহে। সপ্তমীর নবপত্রিকা প্রবেশ বা ‘কলাবৌ’ স্নান প্রকৃতি ও পরিবেশের সাথে পরম বন্ধন গড়ে তোলে। মহাষ্টমীর সকালে ভক্তদের ব্যাকুল অঞ্জলি প্রদান, কুমারী পূজার মাধ্যমে নারীর মাতৃত্ব ও পবিত্রতার বন্দনা এবং রাত আর দিনের সন্ধিক্ষণে একশ আটটি পদ্ম ও প্রদীপে অনুষ্ঠিত মহামিলনের সন্ধিপূজা সৃষ্টি করে এক অলৌকিক ও পবিত্র পরিবেশ। এরপর মহানবমীর আরতি প্রতিযোগিতা, ধূপ-ধুনোর সুবাস আর ঢাকের কাসর-শব্দে পুরো দেশ যেন আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠে।

 

দেবী দুর্গার আরাধনা ও মহাশক্তির ভাবনার মূল উৎস জড়িয়ে আছে সনাতন ধর্মের প্রাচীনতম ধর্মগ্রন্থ বৈদিক সাহিত্যে। ঋগ্বেদের বিখ্যাত ‘দেবীসূক্ত’ বা ‘বাক্‌সূক্ত’-এ (১০ম মণ্ডল, ১২৫তম সূক্ত) দেবী মহামায়া স্বয়ং নিজের পরম শক্তির সত্তা ঘোষণা করে বলেছিলেন যে, তিনিই সমগ্র জগতের সম্রাজ্ঞী, তিনিই রুদ্র ও বসুগণের চালিকাশক্তি এবং সমবেত মানবজাতিকে শুভ ও কল্যাণ দানকারী পরম সত্তা। দেবীসূক্তের সেই বিখ্যাত বৈদিক মন্ত্রমালা থেকেই যুগের পর যুগ দেবীর বন্দনা হয়ে আসছে:

“অহং রাষ্ট্রী সংগমনী বসুনাং চিকিৎসুষী প্রথমী যজ্ঞিয়ানাম্।

তাং মা দেবা ব্যদধুঃ সপুরুত্ৰা ভূরিস্তাত্রাং ভূৰ্যাবেশয়ন্তীম্॥”

প্রাচীন এই বৈদিক ভাবগাম্ভীর্য ফুটে উঠেছে পরবর্তী ধ্রুপদী ভাবনায়। প্রাচীন ভারতের শ্রেষ্ঠ কবি মহাকবি কালিদাস দেবী দুর্গাকে দেখেছিলেন পরম শক্তি, তপস্যা ও প্রকৃতির শাশ্বত সত্যের প্রতীক হিসেবে। তাঁর মহাকাব্য ‘কুমারসম্ভবম্’-এ ফুটে উঠেছে দেবী পার্বতীর সুকঠিন আত্মত্যাগ ও সাধনার ছবি, যেখানে সব বাধা অতিক্রম করে অর্জিত হয় পরম সত্য। তপস্যার একপর্যায়ে গাছের শুকনো পাতাও খাওয়া ছেড়ে দেওয়ায় বিজ্ঞ পণ্ডিতেরা দেবীকে ‘অপর্ণা’ নামে অভিহিত করেন, যা কালিদাসের কাব্যেই অমলিন হয়ে আছে। অন্যদিকে ‘রঘুবংশম্’-এর সূচনায় কবি শিব ও পার্বতীকে (দুর্গা) বাক্য ও তার অর্থের ন্যায় অভিন্ন গণ্য করে সৃষ্টি ও জ্ঞানের মূল ভিত্তি হিসেবে প্রণাম জানিয়ে লিখেছেন:

“বাগার্থাবিব সংপৃক্তৌ বাগার্থপ্রতিপত্তয়ে।  

জগতঃ পিতরৌ বন্দে পার্বতী পরমেশ্বরৌ॥”

কালিদাসের এই সৃষ্টিতে দেবীর রূপটি কেবল অসুরের বিনাশেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তা হয়ে ওঠে ত্যাগ, ধৈর্য এবং প্রকৃতির চিরন্তন ভারসাম্য রক্ষার নিদর্শন।

কালক্রমে উৎসবের এই রূপটি মণ্ডপ বা পূজাহাটের গণ্ডি পেরিয়ে রূপ নেয় সামাজিক মিলনমেলায়। ঈশ্বরভাবনায় প্রথাগত মূর্তিপূজার সমর্থক না হয়েও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উৎসবের এই মানবিক রূপকে আঁকড়ে ধরেছিলেন পরম মমতায়। রবীন্দ্রনাথের দর্শনে উৎসবের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল মানুষের হৃদয়কে প্রসারিত করা, প্রতিদিনের ক্ষুদ্র স্বার্থ ও সামাজিক ভেদাভেদ ভুলে একে অপরকে আপন করে নেওয়া। শরতের কুসুমরথে চড়ে আনন্দময়ীর যে আগমন, রবীন্দ্রনাথের কাছে তা ছিল নীল আকাশ আর শিউলির সুবাসে ঢাকা প্রকৃতিতে সর্বজনীন আনন্দের সুর।

পূজার আনন্দে শিশুদের নিষ্পাপ প্রকাশ আর প্রকৃতিতে আনন্দময়ীর রূপ এঁকে রবীন্দ্রনাথ শারদোৎসবকে কালান্তরে এক সার্বজনীন মহোৎসবে রূপ দিয়েছেন।

উৎসবে সুরের ভিন্নতা এনেছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর লেখায় দেবী দুর্গা একই সঙ্গে দুই বিপরীত কিন্তু সত্য রূপান্তর ধারণ করেছেন। একাধারে পরাধীনতা, সামাজিক অনাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তিনি দেবীকে ‘আগমনি’ কবিতায় আহ্বান জানিয়েছিলেন ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ বা সংহারক চণ্ডীরূপে। তাঁর চেতনায় দুর্গা মানেই ছিল অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ন্যায়ের অদম্য জাগরণ। তিনি লিখেছিলেন:

  রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
ধ্বংশের বুকে হাসুক মা তোর
সৃষ্টির নব পূর্ণিমা।

আবার অন্যদিকে, শ্যামাসংগীত ও আগমনী গানে কবি সেই চণ্ডীরূপিনী দেবীকে বানিয়ে তুলেছেন সাধারণ বাঙালি ঘরের পরম আদুরে কন্যাসন্তান ‘উমা’। দেবীর এই মর্ত্যে আগমন আসলে প্রতিটি বাঙালি মায়ের কাছে তাঁর বিবাহিত মেয়েকে কয়েকদিনের জন্য বাপের বাড়িতে ফিরে পাওয়ার আকুল ব্যাকুলতা। কাজী নজরুলের এই ভাবনায় দুর্গাপূজা পরম পরাক্রান্ত ঈশ্বরের আরাধনার চেয়েও হয়ে ওঠে ঘরের মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কান্নাহাসির এক আবেগঘন সামাজিক উৎসব।

শারদীয় পূজাকে শুধু প্রাচীন সাহিত্য ও কাব্য দিয়ে মাপা যায় না; এর এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে শান্ত-স্নিগ্ধ গ্রামবাংলা ও দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা উৎসবের আলো। শহরের কোলাহল ছাড়িয়ে রূপসী বাংলার প্রতিটি কোণে এই উৎসব ছড়িয়ে পড়ে ছুটির আমেজ, বাল্যের স্মৃতি আর শাশ্বত সৌন্দর্যের এক মায়াবী অনুভূতি হয়ে। আনন্দেরই প্রতিধ্বনি দেখা যায় দেশের প্রতিটি অঞ্চলে, যেখানে ঐতিহ্যের ভিন্ন ভিন্ন রঙে সাজে পূজামণ্ডপগুলো। রাজধানীর ঐতিহাসিক মন্দিরগুলোর চিরচেনা আচার-অনুষ্ঠান কিংবা শহরের আধুনিক আলোকোজ্জ্বল আয়োজন ছাড়িয়ে এই সুর ছড়িয়ে পড়ে দূর-প্রান্তের এলাকাগুলোতেও। নদীর পার ঘেঁষা শতাব্দী প্রাচীন লোকজ ঐতিহ্য, মণ্ডপগুলোর চিরন্তন সাংস্কৃতিক আমেজ, পুরনো মন্দির, শান্ত দীঘির পার কিংবা ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় মন্দির সংলগ্ন পুজোচ্ছাস—সবখানেই লাগে উৎসবের ছোঁয়া। দূরপ্রান্তের সবুজ চা-বাগানঘেঁষা মণ্ডপগুলোর সুন্দর পরিবেশ কিংবা কোনো কোনো লোকালয়ের সুবিশাল প্রতিমা বিন্যাসের জাঁকজমক, সব মিলিয়ে গোটা দেশই বৈচিত্র্য আর সম্প্রীতির এক অপূর্ব মিলনক্ষেত্র হয়ে ওঠে।

শারদীয় দুর্গোৎসব
শারদীয় দুর্গোৎসব

এই মহা-আয়োজনে অনন্য মাত্রা যোগ করে সমতল ও পাহাড়ের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের অন্তর্ভুক্তি ও ঐতিহ্যবাহী উদযাপনের সুর। বিভিন্ন জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর ভাবনায় দেবী দুর্গা কেবল নির্দিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের দেবী নন, বরং তিনি পরম মা, ধরিত্রী ও প্রকৃতির রক্ষাকর্তা। ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে শারদোৎসব তাঁদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও আচারের সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে যায়; দেবীর কাছে তাঁরা প্রার্থনা করেন কৃষি, খাদ্য ও মানবজীবনের সার্বিক সুরক্ষার। সমতলের সাঁওতাল, ওড়াঁও, মাহাতো কিংবা মনিপুরী ও হাজং সম্প্রদায়ের মানুষেরাও এই দিনগুলোতে নিজস্ব লোকজ পোশাক, নৃত্য ও সংগীতের মাধ্যমে শারদীয় আনন্দে শামিল হন। পাহাড়ের উপত্যকা থেকে সমতলের সমতলভূমি—সকল নৃগোষ্ঠীর মানুষের নিজস্ব সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও শ্রদ্ধাবোধের এই মেলবন্ধন শারদোৎসবের সর্বজনীনতাকে আরও ঋদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় করে তোলে। ধর্ম-বর্ণ ও অঞ্চল কিংবা জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের এই সমাগম প্রমাণ করে যে উৎসবের আসল সৌন্দর্য কোনো নির্দিষ্ট সীমানায় নয়, বরং পুরো দেশের সকল মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতিতে।

আজকের জটিল, প্রযুক্তিগত ও গতিময় যুগে দুর্গাপূজা এবং দেবী দুর্গার রূপ কেবল চারদিনের আনন্দ-উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দেবী দুর্গার দশভুজা রূপ ও তাঁর অসুরবধের ঐশ্বরিক মহিমা থেকে আধুনিক সমাজ ও মানুষের শেখার রয়েছে গভীর কিছু দিক। শাস্ত্রে বর্ণিত তাঁর মহিষাসুরমর্দিনী রূপ প্রমাণ করে, পরম সংকটকালে দেবী রূপী নারীই হয়ে ওঠেন সৃষ্টির রক্ষাকর্তা। আজকের সমাজেও নারীশক্তিকে সম্মান জানানো, নারীদের আত্মনির্ভরশীল করা এবং তাঁদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার শিক্ষা দেয় এই উৎসব। দেবী দুর্গার হাতে থাকা নানা অস্ত্র ও দেবগণের প্রদত্ত শক্তির পুঞ্জীভূত রূপ আসলে অধর্ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ধর্ম ও ন্যায়ের জয়ের সূচক। আজকের বিশ্বে বিদ্যমান বৈষম্য, অন্যায় ও হিংসার বিরুদ্ধে শুভ বুদ্ধির একতাবদ্ধ লড়াইয়ের বড় অনুপ্রেরণা দেবীর এই অসুরনাশিনী রূপ। এছাড়া পূজার আরাধনায় ‘নবপত্রিকা’ বা নয়টি গাছের সমন্বয়ে তৈরি ‘কলাবৌ’-এর পূজা পরিবেশ ও প্রকৃতির সাথে মানুষের গভীর সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দেয়, যা বর্তমান যুগে প্রকৃতির সুরক্ষা ও ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বান জানায়।

আনন্দের এই পঞ্চমী থেকে নবমীর পথচলা শেষে বিজয়া দশমীতে এসে দাঁড়ায় এক অন্যরকম আবহে। সিঁদুর খেলা, ঢাকের শ্যাওলা সুর আর পারস্পরিক কোলাকুলি ও মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে বিসর্জনের শোভাযাত্রা যখন বুড়িগঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, বড়াল, কিংবা কর্ণফুলীর তীরেসহ দেশের অসংখ্য নদী-জলাশয়ে গিয়ে পৌঁছে, তখন সেখানে সৃষ্টি হয় আনন্দ ও বেদনার এক অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ। একদিকে বিসর্জনের আনন্দমুখর শোভাযাত্রা, উলুধ্বনি আর নৃত্যের মাতন, অন্যদিকে ঘরের মেয়েকে বিদায় জানানোর চোখের জল ও বিষাদের সুর—এই দুই মিলেই বিজয়া দশমী।

বৈদিক যুগের ধ্রুপদী ভাবগাম্ভীর্য থেকে শুরু করে আধুনিককালের সামাজিক প্রেক্ষাপট, দেশের প্রতিটি প্রান্ত ও সকল নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী আয়োজন এবং মণ্ডপে মণ্ডপে বিসর্জনের সুর—শারদোৎসব চিরকালই অশুভের ওপর শুভ শক্তির বিজয়ের বারতা বয়ে এনেছে। অহংকার, হিংসা ও সংকীর্ণতা ভুলে সমস্ত ভেদাভেদ দূর করে সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করাই এই উৎসবের মূল বারতা। এটি কেবল কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর অনুষ্ঠান নয়; বরং এটি মানুষে মানুষে বন্ধন দৃঢ় করার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়ানোর এবং জীবনকে আনন্দের আলোয় ভরিয়ে তোলার এক অমলিন পথনির্দেশ। শরতের এই আলো ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটা হৃদয়ে, সমস্ত কালিমা ঘুচে গিয়ে জয় হোক মানবতার।

 

কে এম হাসান, সাংস্কৃতিক কর্মী

 

 

 

তথ্যসূত্র:

ঋগ্বেদ সংহিতা — ১০ম মণ্ডল, ১২৫তম সূক্ত (দেবীসূক্ত), মন্ত্র ৩

কালিদাস, মহাকাব্য ‘রঘুবংশম্’ — প্রথম স্বর্গ, শ্লোক ১

পাঠকের মন্তব্য

০
এখনও কোনো মন্তব্য নেই সংবাদটি নিয়ে আপনার মতামত জানিয়ে প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত জানান

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য অ্যাডমিনের অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।

Scroll to Top