শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ • ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ • ১:৪৯:২৫ PM
|
|
এখন সাইটে সংবাদ পড়ছেন ০ জন
এই খবর পড়ছেন ০ জন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কাজল পাঁড়ের অসাধ্য সাধন

ফিচার বাংলা
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | 07:41 PM | পড়তে সময় ৩ মিনিট | মন্তব্য ০

ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমের কাছে যে দারিদ্র্য কোনো বাধাই নয়, তা আবারও প্রমাণ করলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের এক প্রত্যন্ত গ্রাম মাধাইপুরের তরুণ কাজল পাঁড়ে।

আর্থিক অনটন ও সামাজিক প্রতিকূলতা জয় করে কাজল পাঁড়ে ১৮তম বিজেএস (বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী জজ হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

গোমস্তাপুর উপজেলার মাধাইপুর গ্রামের ‘তুরি’ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভূমিহীন কৃষক নরেশ পাঁড়ে ও পঞ্চমী জেড়ি দম্পতির একমাত্র ছেলে কাজল পাঁড়ে। অভাবের তাড়নায় যার তিন বোনের পড়াশোনা প্রাথমিকে পৌঁছানোর আগেই থেমে গিয়েছিল। দিতে হয়েছিল অল্প বয়সেই বিয়ে। ভাঙা ঘরে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসারে পড়াশোনার খরচ চালানো যেখানে বিলাসিতা ছিল, সেখানে জজ হওয়ার স্বপ্ন দেখা ছিল আকাশের চাঁদ ছুঁতে চাওয়ার মতো।

এলাকার লোকজন জানান, ছোটবেলা থেকেই কাজল পাঁড়ে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। অভাবের কারণে অনেক সময় একবেলা খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতে হয়েছে তাকে। ভালো পোশাক কিংবা প্রাইভেট পড়ার মতো টাকা ছিল না। কিন্তু হাল ছাড়েননি তিনি। মাধাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিশন স্কুল, এনায়েতপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও রহনপুর ইউসুফ আলী কলেজে থেকে প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিকে লেখা পড়া শেষ করেন। এরপরই উচ্চশিক্ষার যুদ্ধে নামেন তিনি। প্রথমবার হোঁচট খেলেও দ্বিতীয়বারে বাজিমাত করে একযোগে জগ্ননাথ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পান। ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়েও টিউশনি করে নিজের খরচ নিজে চালিয়েছেন এবং পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

সাফল্যের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে কাজল পাঁড়ে বলেন, তার এ অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তার মা-বাবার। তারা নিজেরা না খেয়ে তাকে পড়িয়েছেন। অনেক দিন এমন গেছে যে বই কেনার টাকা ছিল না, বন্ধুদের কাছ থেকে বই ধার করে পড়েছেন তিনি। কাজল বিশ্বাস করতেন, সততা আর পরিশ্রম থাকলে সৃষ্টিকর্তা পথ তৈরি করে দেন। দেশের বিচারব্যবস্থায় সাধারণ ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন তার মূল লক্ষ্য বলে জানান কাজল।

ছেলের এমন সাফল্যে বাবার চোখে আনন্দঅশ্রু। তিনি বলেন, মানুষের জমিতে কাজ করে যা পেতেন, তা দিয়ে সংসারই চলত তার। কোনোদিন ভাবেননি তার সন্তান এত বড় হবে।  এদিকে ছেলে জজ হওয়ায় গর্বে বুক ভরে যায় মা পঞ্চমী জেড়ি’র। তিনি বলেন, ছেলে চরম কষ্ট করে বড় হবার স্বপ্ন দেখেছিল, তা পূরণ হয়েছে। গাঁয়ের মানুষ এখন তাকে দেখতে আসছে, এতে আনন্দে চোখ ভিজে আসে মমতাময়ী মায়েরও।
কাজলের  সাফল্যে খুশি তার বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ শুভাকাঙ্ক্ষিদের। এলাকার তরুণদের কাছে তিনি এখন এক অনুপ্রেরণার নাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে নিয়ে বইছে প্রশংসার ঝড়।

তথ্য: বাসস

 

পাঠকের মন্তব্য

০
এখনও কোনো মন্তব্য নেই সংবাদটি নিয়ে আপনার মতামত জানিয়ে প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত জানান

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য অ্যাডমিনের অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।

Scroll to Top